February 4, 2026, 7:42 pm


নিজস্ব প্রতিবেদক

Published:
2026-02-04 16:15:28 BdST

ধর্মের নামে দেশে আবার ফ্যাসিবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে: রিজভী


ধর্মের দোহাই দিয়ে দেশে আবারও নতুন আঙ্গিকে ফ্যাসিবাদের আত্মপ্রকাশ ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

তিনি বলেন, ‘নতুনভাবে, নতুন কায়দায়, নতুন অবয়বে কেউ যেন স্বৈরতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে না পারে, সে বিষয়ে আমাদের সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।’

বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে রিপোর্টার্স ফোরাম ফর ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্রেসি (আরএফইডি) সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির উদ্যোগে এই সভার আয়োজন করা হয়।

রিজভী বলেন, গত দেড় দশকে দেশের মানুষ স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারেনি। ভোটের উৎসবমুখর পরিবেশ ধ্বংস করে ভয়ভীতির সংস্কৃতি কায়েম করা হয়েছিল।

তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘সম্প্রতি কিছু রাজনৈতিক অসভ্য ও উগ্র আচরণ দেখা যাচ্ছে, যা ফ্যাসিবাদী মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ। বিশেষ করে ধর্মকে ব্যবহার করে যদি কোনো শক্তি স্বৈরতন্ত্র কায়েম করতে চায়, তবে তা হবে আরও ভয়াবহ।’

সেনাবাহিনীর সঙ্গে এক প্রার্থীর অশোভন আচরণের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘জনগণ সবকিছু পর্যবেক্ষণ করছে। ১২ তারিখ ভোটের মাধ্যমেই তারা এসবের জবাব দেবে।’

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান নজরুল ইসলাম খান বলেন, দেশের বর্তমান সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংকট উত্তরণ অত্যন্ত জটিল। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় ভোটের মাধ্যমে যোগ্য ব্যক্তির হাতে দায়িত্ব তুলে দিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা বিএনপির পক্ষে নয়, বরং জনগণের ভোটের মাধ্যমে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য সবাইকে কাজ করার আহ্বান জানাই।’

বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ড. মাহাদী আমিন আবারও ভোট কারচুপির আশঙ্কা প্রকাশ করে সাংবাদিকদের পেশাগত জায়গায় নিরপেক্ষ থেকে দায়িত্ব পালনের অনুরোধ জানান।

বিগত বছরগুলোতে রাজনৈতিক নিপীড়নের সময় সাংবাদিকদের সাহসিকতার প্রশংসা করেন রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, ‘গভীর রাতে নেতাকর্মীদের তুলে নেয়ার ঘটনাগুলো সাংবাদিকরা প্রকাশ করায় অনেকের জীবন রক্ষা পেয়েছে। পুলিশ অস্বীকার করলেও গণমাধ্যমের ভূমিকার কারণে সত্য সামনে এসেছে।’

মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ইসলাম জবিউল্লাহসহ কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির অন্য নেতারা। বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন একটি অবাধ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে

Unauthorized use or reproduction of The Finance Today content for commercial purposes is strictly prohibited.