সামিউর রহমান লিপু
Published:2026-05-16 02:21:49 BdST
শিল্প সংগঠনগুলোর প্রস্তাব সরকারের বিবেচনায়আসন্ন বাজেটে ফ্যাশন শিল্পের মূল চ্যালেঞ্জ শুল্ক
২০২৬ সালে এসে নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি বৈশ্বিক ফ্যাশন শিল্প। মার্কিন শুল্ক ও বাণিজ্য উত্তেজনা পরিবর্তন এনেছে সরবরাহ চেইনে। ভোক্তারা এখন ক্রমবর্ধমান পণ্যমূল্য, শারীরিক সুস্থতা ও দীর্ঘায়ুকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন-ইসরায়েল জোটের সাথে ইরানের যুদ্ধাবস্থার প্রভাবে ক্রমেই জটিল হয়ে পড়া বৈশ্বিক টালমাটাল পরিস্থিতিতে নতুন বছর ফ্যাশন শিল্পের জন্য হবে অত্যাধিক চ্যালেঞ্জিং। তবে প্রযুক্তির ব্যবহার কিছুটা স্বস্তি দেবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকগণ।
সাম্প্রতিক সময়ে হরমুজ প্রণালী ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে সৃষ্ট অচলাবস্থা নিরসনে অনিশ্চয়তা অদ্যাবধি ঠিক না হওয়ায় গোটা বিশ্বের ন্যায় বাংলাদেশও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বানিজ্যিকভাবে এই ক্ষতির প্রভাবে দেশের তৈরী পোশাকশিল্প ও ফ্যাশন শিল্পও হুমকির মুখে পড়বে।
এনিয়ে গত বছরের ১৭ নভেম্বর মার্কিন বহুজাতিক কৌশল ও ব্যবস্থাপনা পরামর্শদাতা প্রতিষ্ঠান ম্যাককিনজি অ্যান্ড কোম্পানির প্রকাশিত বার্ষিক ফ্যাশন রিপোর্ট ‘দ্য স্টেট অব ফ্যাশন ২০২৬: হোয়েন দ্য রুলস চেঞ্জ’-এ আলোচ্য বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়।
উক্ত রিপোর্টটিতে তুলে ধরা হয়েছে কীভাবে ২০২৬ সালে বাণিজ্য, প্রযুক্তি ও ভোক্তাদের আচরণে পরিবর্তন ফ্যাশন ব্যবসায় চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে। একইসঙ্গে রিপোর্টের ফলাফলে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালে ফ্যাশন শিল্পের মূল উদ্বেগে রয়েছে বাণিজ্য উত্তেজনা ও শুল্কের প্রভাব।
এই রিপোর্টে বিশ্বের ফ্যাশন নির্বাহীদের ৭৬ শতাংশই শুল্ককে বছরের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখলেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে (এআই) এই শিল্পের জন্য সবচেয়ে বড় সুযোগ হিসেবে উল্লেখ করেছেন, যা পণ্য পৃথকীকরণ ও টেকসই দক্ষতা উন্নয়ন অন্য ব্যবসায়িক অগ্রাধিকারের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
ফ্যাশন নির্বাহীদের ৪৬ শতাংশই মনে করছেন চলতি বছরে শিল্পের অবস্থা আরও খারাপ হবে, যদিও ২৫ শতাংশ কিছু সুযোগ দেখছেন।
সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের সামনে উত্থাপিত প্রশ্নগুলোর মধ্যে একটি আলোচিত প্রশ্ন ছিলো - কোন বৈশ্বিক অর্থনৈতিক বিষয়গুলোকে ২০২৬ সালে ফ্যাশন শিল্পের বৃদ্ধির জন্য সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হিসেবে মনে করেন? এই প্রশ্নের উত্তরে ফ্যাশন নির্বাহীদের ৭৮ শতাংশ গ্রাহক আস্থা, ৬৬ শতাংশ ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা, ৩০ শতাংশ চলমান অর্থনৈতিক অস্থিরতা, ২৫ শতাংশ মুদ্রাস্ফীতি ও ৪০ শতাংশ বিঘ্নিত বাণিজ্য প্রবাহের কথা বলেছেন।
আগামী অর্থবছরে বৈশ্বিক ফ্যাশন শিল্পের মূল চ্যালেঞ্জ শুল্ক (ট্যারিফ) হলেও রপ্তানিকারক দেশের মধ্যে বাংলাদেশ সহ অন্যদের জন্য আরও অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, এই চ্যালেঞ্জগুলোই বছরের ব্যবসায়িক পরিবেশ নির্ধারণ করবে।
বাংলাদেশের ফ্যাশন ও তৈরি পোশাক শিল্পের মূল চ্যালেঞ্জগুলো শুল্ক, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক বাজারের অনিশ্চয়তা নিয়ে আবর্তিত হচ্ছে। বাংলাদেশ ২০২৬ সালে স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণ লাভ করায় পরবর্তী সময়ে শুল্কমুক্ত সুবিধা হারানো এবং আসন্ন বাজেটে করের বোঝা বাড়ার আশঙ্কা এই খাতের জন্য সবচেয়ে বড় উদ্বেগ।
চলমান অস্থিরতায় খাতসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের উদ্বেগ নিরসনে আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের আগে একগুচ্ছ প্রস্তাবনা পেশ করেছে ব্যবসায়ী সংগঠন বিজিএমইএ ও ডিসিসিআই। ফ্যাশন শিল্পের এই প্রধান চ্যালেঞ্জ ও প্রস্তাবনাসমূহ নিয়ে সরকারের সম্ভাব্য পরিকল্পনাসমূহ নিয়ে আলোকপাত করা হবে দ্য ফিন্যান্স টুডের আজকের এই প্রতিবেদনে।
বাজেটে ফ্যাশন শিল্পের প্রধান শুল্ক ও আর্থিক চ্যালেঞ্জসমূহ:
রপ্তানি প্রণোদনায় উৎসে কর বৃদ্ধি
সরকার রপ্তানিতে নগদ প্রণোদনার ওপর বিদ্যমান উৎসে কর ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২০ শতাংশ করার পরিকল্পনা করছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-র এই প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে রপ্তানি খাত থেকে কর আদায় উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে। তবে এমন এক সময়ে সরকার এই উদ্যোগ নিচ্ছে যখন উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার কারণে দেশের প্রধান রপ্তানি খাতগুলো নানা চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
উল্লেখ্য, রপ্তানি খাতের জন্য চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে পাটসহ বিভিন্ন উপখাতে সরকার প্রায় ৯ হাজার ২৫ কোটি টাকা নগদ প্রণোদনা হিসেবে বরাদ্দ রেখেছে। যদি আগামী অর্থবছরেও এই প্রণোদনার হার এবং রপ্তানি পরিস্থিতি অপরিবর্তিত থাকে, তবে উৎসে করের হার ১০ শতাংশ বৃদ্ধি করার ফলে সরকার অতিরিক্ত প্রায় ৯০০ কোটি টাকা রাজস্ব সংগ্রহ করতে পারবে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কর্মকর্তারা মনে করছেন, রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে এটি একটি কার্যকর পদক্ষেপ হতে পারে।
অন্যদিকে, তৈরি পোশাক শিল্পের রপ্তানিকারকরা বলছেন, বর্তমানে যেখানে মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮৫ শতাংশ আসে এই খাত থেকে, সেখানে করের বোঝা বাড়ানো হলে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে।
বাণিজ্যিক আমদানিতে আগাম কর
বাণিজ্যিক আমদানিতে আগাম কর ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৭.৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে, যা কাঁচামাল আমদানির খরচ বাড়াবে। এর পাশাপাশি, ক্যাপিটাল মেশিনারিজ আমদানিতেও ব্যাপক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা শিল্প উৎপাদন খরচ বাড়িয়ে দিবে। শুধু তাই নয়, এই আগাম কর বৃদ্ধি রাজস্ব বাড়ালেও স্বল্প মেয়াদে মূল্যস্ফীতি এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলার আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশ্লেষকদের মতে, আগাম কর বৃদ্ধির ফলে ব্যবসায়ীদের মূলধনের একটি বড় অংশ কর হিসেবে আটকে থাকবে। কাগজে-কলমে এই কর সমন্বয়যোগ্য হলেও, বাস্তবে তা ফেরত পাওয়া বা সমন্বয় করা জটিল ও সময়সাপেক্ষ, যা ব্যবসায়ীদের ভোগান্তি আরও বাড়াবে।
এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তী শুল্ক সুবিধা হ্রাস
২০২৬ সালের নভেম্বর মাসে স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের পর বাংলাদেশ শুল্ক ও কোটামুক্ত বাজার সুবিধা (ডিএফকিউএফ), রপ্তানি ভর্তুকি এবং মেধাস্বত্বের ক্ষেত্রে বিশেষ ছাড়ের মতো সুবিধা হারাবে। এর ফলে, ২০২৭ সাল থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাজারে শুল্কমুক্ত সুবিধা না থাকলে পোশাক রপ্তানিতে প্রায় সাড়ে ১২ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ হতে পারে, যা প্রতিযোগিতামূলক বাজারে টিকে থাকা আরও কঠিন করবে।
এছাড়া, উন্নত দেশগুলোতে 'এভরিথিং বাট আর্মস' (ইবিএ) সুবিধার আওতায় ওষুধসহ অন্যান্য পণ্যের শুল্কমুক্ত সুবিধাও আর থাকবে না।
তবে আশাব্যঞ্জক তথ্য হচ্ছে, বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধুরাষ্ট্র জাপান এলডিসি থেকে উত্তরণের পরও এই দেশকে অতিরিক্ত আরও তিন বছর (২০২৯ সাল পর্যন্ত) শুল্ক সুবিধা বহাল রাখবে।
উৎপাদন ব্যয় ও করের চাপ
আনুমানিক ৯.৩০ লক্ষ কোটি টাকার প্রস্তাবিত বাজেট রাজস্ব ঘাটতি মেটাতে ও ঋণ পরিশোধের চাপে করের আওতা বাড়ানোর ইঙ্গিত দিচ্ছে। করমুক্ত আয়ের সীমা অপরিবর্তিত থাকলেও, উপজেলা পর্যায়ে প্যাকেজ ভ্যাট ও সর্বনিম্ন করের বোঝা বাড়ায় উৎপাদন ও ব্যবসার খরচ বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে।
উল্লেখ্য যে, উচ্চ ব্যাংক সুদ (১২-১৫ শতাংশ), গ্যাসের উচ্চমূল্য এবং ডলার সংকটের কারণে পোশাক শিল্প ইতিমধ্যে চাপের মুখে রয়েছে। এর মাঝেই এনবিআর কর-জিডিপি অনুপাত ১০ শতাংশ বৃদ্ধি করা, করছাড় কমানো, গ্রামীণ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ওপর মাসিক ৫০০ থেকে ১,০০০ টাকা পর্যন্ত 'প্যাকেজ ভ্যাট' চালুর নৈতিক পরিকল্পনা এবং উৎসে কর পুনর্নির্ধারণের ফলে শিল্প ও ট্রেডিং খাতে উৎপাদন ব্যয় বাড়তে পারে।
এদিকে, করমুক্ত আয়ের সীমা না বাড়ায় ও নিত্যপণ্যের উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে মধ্যবিত্তের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়বে। এছাড়া আর্থিক স্থিতিশীলতার জন্য ব্যাংক খাতের সংস্কার ও করের চাপ আরও বাড়তে পারে।
খাত-সংশ্লিষ্ট বিজিএমইএ ও ডিসিসিআই'র প্রস্তাব
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিএমইএ এবং ডিসিসিআই-এর পক্ষ থেকে কিছু প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য প্রস্তাবনা সমূহ নিম্নরূপ:
> রপ্তানি আয়ের বিপরীতে ১ শতাংশ উৎসে কর কমিয়ে ০.৫ শতাংশ করার সুপারিশ
ফ্যাশন ও তৈরী পোশাক খাতের রপ্তানিকারক সংগঠনগুলো জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কাছে উৎসে করহার ১ শতাংশ থেকে কমিয়ে ০.৫ শতাংশ করার দাবি জানিয়েছে। শিল্পের বর্তমান সংকটময় পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে এই করহার আগামী ৫ বছর পর্যন্ত স্থায়ী করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
এছাড়া পোশাক খাতের ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের দাবি, রপ্তানির বিপরীতে কাটা এই উৎসে কর যেন তাদের চূড়ান্ত আয়কর হিসেবে গণ্য করা হয়।
উদ্যোক্তাদের মতে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং প্রতিযোগী দেশগুলোর সাথে পাল্লা দিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে টিকে থাকতে এই কর কমানো অত্যন্ত জরুরি।
> আগাম কর ধাপে ধাপে তুলে দেওয়া
> কাঁচামাল ও যন্ত্রাংশ আমদানিতে শুল্ক ছাড়
সরকারের পরিকল্পনা
শুল্কবৃদ্ধির সম্ভাবনা এবং অন্যান্য চ্যালেঞ্জগুলো আমলে নিয়ে চলমান অর্থনৈতিক ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে ও সৃষ্ট জটিলতা নিরসনে ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর দেয়া প্রস্তাব বিবেচনা করে সরকারের পক্ষ থেকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বেশকিছু পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে।
সূত্র মতে, সম্ভাব্য এই ঝুঁকি মোকাবেলায় বাংলাদেশ সরকার আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে শুল্ক কাঠামো যৌক্তিকীকরণ এবং রপ্তানি বহুমুখী করার উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। আসন্ন বাজেট এবং পরবর্তী মেয়াদে প্রস্তাবিত প্রধান পদক্ষেপসমূহ নিম্নরূপ:
শুল্ক ও বাণিজ্য নীতি সংস্কার
শুল্ক যৌক্তিকীকরণ: এলডিসি থেকে উত্তরণের পর উচ্চ শুল্কহার রাখা যাবে না, তাই জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ধাপে ধাপে শুল্কহার কমানোর পরিকল্পনা করছে।
নিয়ন্ত্রণমূলক ও সম্পূরক শুল্ক হ্রাস: উৎপাদন খরচ কমাতে কাঁচামাল ও যন্ত্রপাতির ওপর নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক কমিয়ে আনা হচ্ছে।
এফটিএ/ইপিএ স্বাক্ষর: জাপানসহ অন্যান্য উন্নত দেশের সাথে দ্বিপাক্ষিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) বা অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) সই করার প্রস্তাবনা জোরদার করা হচ্ছে, যাতে ২০২৯ সাল পর্যন্ত শুল্কসুবিধা ধরে রাখা যায়।
এছাড়া বাংলাদেশ সরকার বিভিন্ন দেশের সাথে আঞ্চলিক বাণিজ্য চুক্তি (পিটিএ) করার ওপর জোর দিচ্ছে।
রপ্তানি বহুমুখীকরণ ও প্রণোদনা সংস্কার
নগদ প্রণোদনার বিকল্প: বিশ্ব বানিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) নিয়মানুযায়ী, যেহেতু সরাসরি নগদ সহায়তা দেওয়া যাবে না, তাই সরকার রপ্তানিকারকদের জন্য বন্ডেড ওয়্যারহাউস সুবিধা সম্প্রসারণের প্রস্তাব করেছে।
নতুন বাজারে প্রবেশ: তৈরি পোশাকের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে তথ্যপ্রযুক্তি, ঔষধশিল্প এবং চামড়াশিল্পের মতো খাতে বিশেষ প্রণোদনা ও নীতিসহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার।
শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধি
মূলধনী যন্ত্রপাতিতে ছাড়: উৎপাদনশীলতা বাড়াতে এবং উৎপাদন খরচ কমাতে শিল্প-কারখানার কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক ছাড়ের প্রস্তাব।
পেটেন্ট ও মেধাস্বত্ব: ঔষধশিল্পে পেটেন্ট নিয়ম কঠোর হবে, তাই দেশীয় ঔষধ উৎপাদনকারীদের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া।
অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণ ও বিনিয়োগ
ভ্যাট ব্যবস্থা আধুনিকীকরণ: শুল্ক আয় কমলে তা পূরণে ভ্যাট ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ ও কর বেস বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া।
বিনিয়োগবান্ধব করহার: কর্পোরেট করহার ২৫ শতাংশ থেকে ধাপে ধাপে কমিয়ে ২০ শতাংশে আনার প্রস্তাব বিবেচনা করা হচ্ছে।
কৌশলগত পদক্ষেপ: গ্রিন ফিন্যান্সিং ও টেকসই উন্নয়ন
পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে করছাড় এবং গ্রিন ফিন্যান্সিংয়ের সুযোগ দেয়ার পাশাপাশি মানবসম্পদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে প্রযুক্তিগত শিক্ষার ওপর বাজেটে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সামগ্রিকভাবে, ২০২৬-২৭ বাজেটটি ফ্যাশন শিল্পের জন্য টেকসই প্রবৃদ্ধি বজায় রাখা এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার ক্ষেত্রে একটি বড় পরীক্ষা হিসেবে গণ্য হচ্ছে। এই অগ্নিপরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞদের অভিমত হচ্ছে, বাজেটে শুধুমাত্র রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রার ওপর জোর না দিয়ে, রপ্তানি প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং টেকসই অর্থনৈতিক নীতি বাস্তবায়নে কার্যকর রোডম্যাপ থাকা প্রয়োজন।
Unauthorized use or reproduction of The Finance Today content for commercial purposes is strictly prohibited.
