May 14, 2026, 8:25 pm


মোস্তফা কামাল আকন্দ

Published:
2026-05-14 19:13:36 BdST

ঢাকায় বজ্রপাতের ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার উপর আন্তর্জাতিক ওয়েবিনার অনুষ্ঠিতবজ্রপাতে মৃত্যু কমাতে সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান বিশেষজ্ঞদের


সাম্প্রতিক সময়ে বজ্রপাত ক্রমশ একটি বড় ঝুঁকিতে পরিণত হচ্ছে, যার ফলে প্রতি বছর বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটছে। প্রাণঘাতী বজ্রপাত থেকে মানুষের জীবন রক্ষার অপরিহার্য প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ, মানবিক সহায়তাকর্মী এবং বজ্রপাত বিশেষজ্ঞরা।

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বজ্রপাতের ঘটনা দ্রুত বাড়ছে কিন্তু এই ঝুঁকি মোকাবেলার প্রস্তুতি অপর্যাপ্ত এবং সম্প্রদায়-ভিত্তিক দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস কর্মসূচিতে এটি খুব কমই অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

দুর্যোগ বিশেষজ্ঞরা বলেছেন যে, দক্ষিণ এশিয়ায় বজ্রপাত অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল জলবায়ু-সম্পর্কিত বিপদ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে এবং বাংলাদেশ ও নেপালে বজ্রপাতে মৃত্যুর হার ও ঘটনার সংখ্যা সবচেয়ে মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ভারতেও ইদানীং বজ্রপাতের ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এজন্য তাঁরা স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি), আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা, সম্প্রদায়ভিত্তিক বজ্রপাতের ঝুঁকি হ্রাসকরণ প্রণালী, গণসচেতনতা, সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণ এবং সরকারি-বেসরকারি সংস্থার সমন্বিত প্রচেষ্টা চালুর আহ্বান জানিয়েছেন।

এই ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের পরিপ্রেক্ষিতে গ্লোবাল সাউথের স্থানীয় ও জাতীয় মানবিক সংস্থাগুলোর একটি নেটওয়ার্ক এবং গ্র্যান্ড বার্গেন স্বাক্ষরকারী অ্যালায়েন্স ফর এমপাওয়ারিং পার্টনারশিপ (এ৪ইপি), বাংলাদেশের কোস্ট ফাউন্ডেশন এবং ভারতের জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (এনডিএমএ), ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্ট অবজার্ভিং সিস্টেমস প্রোমোশন কাউন্সিল (ক্রপ-সি) ও হিউম্যানিটেরিয়ান এইড ইন্টারন্যাশনাল (এইচএআই)-এর সহযোগিতায় আজ যৌথভাবে ‘বজ্রপাত ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক ওয়েবিনারের আয়োজন করেছে।

কোস্ট ফাউন্ডেশনের যুগ্ম পরিচালক মো. ইকবাল উদ্দিন অংশগ্রহণকারীদের স্বাগত জানান এবং এইচএআই-এর ড. জাহাবিয়া ওয়েবিনারটি সঞ্চালনা করেন। ক্রপ-সি'র চেয়ারম্যান এবং ‘লাইটনিং রেজিলিয়েন্ট ইন্ডিয়া ক্যাম্পেইন’-এর আহ্বায়ক কর্নেল (অব.) সঞ্জয় শ্রীবাস্তব মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন। কোস্ট ফাউন্ডেশনের সহকারী পরিচালক মো. শাহিনুর ইসলাম অনুষ্ঠানের সুপারিশগুলো সংক্ষিপ্তভাবে তুলে ধরেন এবং ওয়েবিনারে অংশগ্রহণকারী সবাইকে ধন্যবাদ জানান।

বিশিষ্ট বক্তাদের মধ্যে এইচএআই'র প্রতিষ্ঠাতা সুধাংশু এস. সিং, দুর্যোগ ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য সচিব গওহর নাঈম ওয়াহরা এবং কোস্ট ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক রেজাউল করিম চৌধুরীও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

সঞ্জয় শ্রীবাস্তব বজ্রপাতজনিত মৃত্যু কমাতে আগাম পদক্ষেপ গ্রহণ পদ্ধতি এবং জননিরাপত্তা ব্যবস্থার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক তাপমাত্রা বজ্রপাতের ঘটনা বাড়াচ্ছে এবং সতর্ক করে বলেন যে, তাপমাত্রা ১° সেলসিয়াস বাড়লে বজ্রপাতের ঘটনা ১২ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে।

তিনি বৃহত্তর জনসচেতনতা, বৃক্ষরোপণ, নিরাপদ আশ্রয়, স্থানীয় কর্মপরিকল্পনা, স্থায়ী কার্যপ্রণালী (এসওপি) এবং শক্তিশালী জলবায়ু অভিযোজন নীতির প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। তিনি আদিবাসী জ্ঞান নথিভুক্ত করা এবং বজ্রপাতের ঝুঁকি হ্রাসকরণ উদ্যোগে সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।

সুধাংশু এস. সিং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সম্প্রদায়ের মধ্যে সমন্বয়ের অভাবকে একটি প্রধান প্রতিবন্ধকতা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন এবং জ্ঞান বিনিময়, নীতি প্রণয়ন ও বজ্রপাত সুরক্ষা বিধিমালা বাস্তবায়নের জন্য শক্তিশালী স্থানীয়, জাতীয় ও বৈশ্বিক সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন।

গওহর নাঈম ওয়াহরা বজ্র নিরোধক স্থাপন এবং বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির মতো বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও, কার্যকরভাবে ঝুঁকি হ্রাসের জন্য সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণ সীমিত এবং তা জোরদার করার ওপর জোর দিয়েছেন।

রেজাউল করিম চৌধুরী বলেছেন, বাংলাদেশের আটটি জেলায় একদিনে বজ্রপাতে ১৪ জনের মৃত্যুর ঘটনাটি উদ্বেগজনক এবং জীবন বাঁচাতে তিনি সরকার, এনজিও ও সম্প্রদায়ের মধ্যে সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।

এদিকে, বজ্রপাতে প্রাণহানির সংখ্যাধিক্যের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে ইকবাল উদ্দিন বলেন, বাংলাদেশে এখন প্রতি বছর বন্যা বা ঘূর্ণিঝড়ের চেয়ে বজ্রপাতে বেশি প্রাণহানি ঘটছে এবং তিনি বজ্রপাত ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ স্থায়ী কার্যপ্রণালী (এসওপি) ও জাতীয় কর্মপরিকল্পনা প্রবর্তনের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পাশাপাশি ভারত, নেপাল, পাকিস্তান, নাইজেরিয়া এবং চীন থেকে আগত দুর্যোগ বিশেষজ্ঞগণ অংশগ্রহণ করেন। এসময় তারা বজ্রপাতের সময়ে করণীয় ও বর্জনীয় বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা শনাক্তকরণ এবং বজ্রপাতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য কার্যকর প্রতিক্রিয়া ও চিকিৎসা প্রণালী প্রণয়নের গুরুত্বের ওপর জোর দেন।

Unauthorized use or reproduction of The Finance Today content for commercial purposes is strictly prohibited.