March 22, 2026, 11:11 pm


শাহীন আবদুল বারী

Published:
2026-03-22 20:50:59 BdST

ভূঞাপুরে বিএনপির দুঃসময়ের কান্ডারী চেয়ারম্যান সেলু


ভূঞাপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এবং ফলদা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান সেলিমুজ্জামান সেলু সর্বজন স্বীকৃত একজন রাজনৈতিক নেতা। তিনি পতিত সরকার আমলে জেল-জুলুম ও নির্যাতনের শিকার। শত প্রতিকূলতার মধ্যেও নেতাকর্মীদের দুঃসময়ের কান্ডারী সেলু চেয়ারম্যান বিনয়ী আচরণ করতেন বিরোধী শিবিরের লোকজনের সঙ্গে। এখনো একইসাথে সুলভমূলক আচরণ করেন। সর্বস্তরের মানুষ তার আচরণে মুগ্ধ।

সেলিমুজ্জামান সেলু বিএনপির রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয়। সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নিজ গ্রাম পাছতেরিল্যা সহ পূরো থানা জুড়ে সকলের কাছে প্রিয় একজন রাজনৈতিক নেতা। তৃণমূল রাজনীতি থেকে উঠে এসে তিনি স্থানীয় রাজনীতিতে নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন। গরীব অসহায় মানুষের পাশে থাকেন সব সময়। ছাত্রজীবন থেকেই রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত। তিনি ধীরে ধীরে এলাকার মানুষের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেন।সংগঠনের বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করার পর দলের দুঃসময়ে তিনি উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এর দায়িত্বপ্রাপ্ত হোন। রাজনীতির পাশাপাশি এলাকার উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে তিনি সক্রিয় ভূমিকা রেখে চলেছেন।

সেলু চেয়ারম্যান পতিত সরকারের সাড়ে ১৫ বছর রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন। তিনি বিরোধী দলের কাতারে অবস্থান করেও সরকারি দলের নেতাকর্মীদের কাছে মাথা বিক্রি করেননি। তিনি প্রতিনিয়ত দলের স্বার্থে নেতাকর্মীদের পাশে থাকেন। বিভিন্ন সময়ে বিরোধী দলের ঘাত-প্রতিঘাত ও প্রতিহিংসা সহ্য করেছেন। এর প্রতিদান হিসেবে ছাত্রনেতা থেকে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন সেলিমুজ্জামান তালুকদার সেলু।

বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ এই নেতা সমাজ সেবায় এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তিনি নিজ গ্রাম পাছতেরিল্যায় নিজস্ব অর্থায়নে বাবার নামে প্রতিষ্ঠাতা করেছেন সিরাজ আলী তালুকদা উচ্চ বিদ্যালয়। সেখানে অদ্যাবধি প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন। মায়ের নামে প্রতিষ্ঠা করেছেন হাফিজিয়া মাদ্রাসা। ২০০১ সালে বিএনপি তৃতীয় দফায় ক্ষমতায় আসলে সেলুমুজ্জামান তালুকদার ফলদা ইউনিয়ন পরিষদে দ্বিতীয় বারের মতো চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। সে সময় তিনি একাধারে নয় বছর চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। অনেক দুঃখ-দর্দশা ও চরম বিপর্যয়ের মধ্যেও তিনি বিএনপির রাজনীতে ছিলেন অবিচল। রাজনীতির পাশাপাশি ভূঞাপুর উপজেলায় বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের কাছে একজন শিক্ষক হিসেবেও পরিচিত মুখ সেলিমুজ্জামান তালুকদার সেলু। তাকে একজন দক্ষ শিক্ষক হিসেবে জানের ছাত্র-ছাত্রীরা। সর্বস্তরের জনগণের নিবেদিতপ্রাণ সেলু চেয়ারম্যান একজন সমাজসেবকও। বিএনপির সক্রিয় রাজনীতিবিদ এই নেতা এলাকায় সুপরিচিত । বহুমাত্রিক এই ব্যক্তির জীবন ও কর্ম আজ স্থানীয় মানুষের কাছে অনুপ্রেরণার উৎস। শিক্ষা জীবন থেকেই তাঁর পথচলার শুরু। একজন প্রধান শিক্ষক হিসেবে শুধু পাঠদানেই সীমাবদ্ধ থাকেননি, বরং শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, মানবিকতা ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলছেন। তাঁর নেতৃত্বে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা ও মানোন্নয়নের দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে বলে জানিয়েছেন সহকর্মী ও অভিভাবকরা।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক পরিষদের সভাপতি সেলিমুজ্জামান সেলু শিক্ষকের নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন নিরলসভাবে। নানা চড়াই উৎরাই পার করে বিএনপি আবার ক্ষমতার মসনদে। এই সময়টাতে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে তোরজোড় শুরু হয়েছে । স্থানীয় সরকারে একটি ধাপ উপজেলা পরিষদ। দল মনোনয়ন দিলে তিনি উপজেলা পরিষদে নির্বাচন করতে আগ্রহী বলে জানা গেছে বিভিন্ন সূত্রে। তিনিও আশা-ভরসা নিয়ে মাঠে কাজও শুরু করেছেন।

স্থানীয়দের সাথে আলাপচারিতার জানা যায় , ফলদা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান থাকাকালীন সময়ে তিনি গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, সড়ক সংস্কার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সহযোগিতা এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মতো নানা উদ্যোগ গ্রহণ করে ছিলেন। ফলে সাধারণ মানুষের কাছে তিনি একজন সহজপ্রাপ্য জনপ্রতিনিধি হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। রাজনৈতিক অঙ্গনেও তার রয়েছে সরব উপস্থিতি। দলের কর্মসূচি বাস্তবায়ন, তৃণমূল নেতাকর্মীদের সংগঠিত করা এবং রাজনৈতিক কার্যক্রমকে গতিশীল রাখতে তিনি নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছেন। বিশেষ করে জাতীয় রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ সময়ে মাঠে সক্রিয় ভূমিকার জন্য দলের নেতাকর্মীদের কাছেও তিনি আস্থার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত।

স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভূঞাপুরের রাজনীতিতে তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং তৃণমূলের সাথে নিবিড় যোগাযোগ তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে।

এই বিষয়ে সেলিমুজ্জামান সেলু এই প্রতিবেদককে বলেন, “রাজনীতি আমার কাছে ক্ষমতার বিষয় নয়, মানুষের পাশে থাকার একটি মাধ্যম। মানুষের সেবা করার একটি সুযোগ। আমি সবসময় চেষ্টা করেছি মানুষের পাশে থাকতে এবং এলাকার উন্নয়নে কাজ করতে। ভবিষ্যতেও সংগঠনকে শক্তিশালী করা ও মানুষের কল্যাণে কাজ করে যেতে চাই”। সামনের দিন গুলোতেও এলাকার উন্নয়ন এবং দলীয় কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করতে কাজ করে চাই। দল যদি মনে করে তাহলে আমাকে উপজেলা পরিষদে ইলেকশন করার সুযোগ দিবে। আমার এলাকার উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে কাজ করাই প্রধান ব্রত। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান থাকাকালীন সময়ে ফলদা ইউনিয়নে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, রাস্তা সংস্কার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সহায়তা এবং সামাজিক উদ্যোগ বাস্তবায়নে কাজ করেছেন বলে তিনি জানান।

বিএনপির কয়েকজন রাজনৈতিক নেতার সাথে আলাপ করে জানা যায়, মানুষের সুখ–দুঃখে পাশে থাকার জন্য সেলু চেয়ারম্যান এলাকায় গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছেন। সবার প্রিয় মুখ হিসেবেই তিনি পরিচিত। তার নেতৃত্বে তৃণমূল রাজনীতি নতুন গতি পেয়েছে। ফলদা ইউনিয়নে তিনি দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত। মানুষের সঙ্গে তার সহজ যোগাযোগ এবং সংগঠনের প্রতি নিষ্ঠার কারণে তিনি এলাকায় একটি শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন।

ফলদা ইউনিয়ন ও ভূঞাপুর উপজেলার রাজনীতিতে তৃণমূল পর্যায়ে নেতৃত্ব গড়ে তুলতে তার ভূমিকা উল্লেখযোগ্য।সেলিমুজ্জামান তালুকদার সবসময়ই মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেন। দরিদ্র ও অসহায় মানুষের সহায়তা, শিক্ষা উপকরণ বিতরণ, চিকিৎসা সহায়তা প্রদানসহ বিভিন্ন মানবিক কাজে তাঁর সক্রিয় অংশগ্রহণ রয়েছে। দুর্যোগকালেও তাঁকে এগিয়ে আসতে দেখা যায়। যেকারণে তিনি স্থানীয়দের প্রিয় একজন মানুষ ।

সময়ের সাথে সাথে অনেকেই পরিচিতি পান, কিন্তু কাজের মাধ্যমে মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নেওয়া কঠিন। সেলিমুজ্জামান তালুকদার সেই কঠিন কাজটি করেছেন। শিক্ষা থেকে সমাজ, সমাজ থেকে রাজনীতি—সবখানেই তাঁর পদচারণা এক ইতিবাচক পরিবর্তনের বার্তা দেয়।

Unauthorized use or reproduction of The Finance Today content for commercial purposes is strictly prohibited.