শাহীন আবদুল বারী
Published:2026-02-13 04:11:37 BdST
টাঙ্গাইলে ৮টি আসনের ৭টিতেই নিরঙ্কুশ জয় বিএনপির
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইলের ৮টি আসনের মধ্যে ৭টিতেই বিজয়ী হয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এর প্রার্থীরা। একটি আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই শেষে বিএনপিরই বিদ্রোহী প্রার্থী জয়ী হয়েছেন।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে প্রাপ্ত আসনভিত্তিক ফলাফল নিম্নে তুলে ধরা হলো।
টাঙ্গাইল-১
মধুপুর ও ধনবাড়ি উপজেলা নিয়ে গঠিত টাঙ্গাইল-১ আসনের ৮৫টি কেন্দ্রের ভোট গননা শেষ হয়েছে। প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী, ৬১ হাজার ৮১৮ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছেন জামাতের প্রার্থী।
বিএনপির প্রার্থী ফকির মাহবুব আনাম ১ লাখ ৫৪ হাজার ৫৩৯ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আব্দুল্লাহেল কাফি পেয়েছেন ৯২ হাজার ৭৮১ ভোট।
এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪,৩৭,৪৭৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২১৬০০৭ জন এবং মহিলা ভোটার ২২১৪২৪ জন। এছাড়া, তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ছিলেন ২ জন।
টাঙ্গাইল-২ (ভুঞাপুর-গোপালপুর) আসনে বিএনপির প্রার্থী আব্দুস সালাম পিন্টু ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৯৪ হাজার ৩৫৮ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।
তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হুমায়ুন কবির দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৫৭ হাজার ৫১৬ ভোট।
টাঙ্গাইল-৩
টাঙ্গাইল জেলার ৭টি আসনেই একক আধিপত্য বজায় থাকলেও এই একটি আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ২৫ হাজার ১৮৪ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছেন বিএনপিরই বিদ্রোহী প্রার্থীর কাছে।
ঘাটাইল উপজেলা নিয়ে গঠিত টাঙ্গাইল-৩ আসনে ১৩৮টি কেন্দ্রের মধ্যে ১২২টির ভোট গননা শেষে প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. লুৎফর রহমান খান আজাদ মোটরসাইকেল প্রতীকে ১ লাখ ৬ হাজার ৭৯৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন।
তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী ওবায়দুল হক নাসির 'ধানের শীষ' প্রতীকে পেয়েছেন ৮১ হাজার ৭৩৪ ভোট। আজাদ
এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩,৮২,৭২০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১,৯১,৮৬৪ এবং মহিলা ভোটার ১,৯০,৮৫৩ জন। এর মধ্যে ১ লক্ষ ৮৮ হাজার ৭১২ জন ভোট প্রদান করেন।
টাঙ্গাইল-৪
কালিহাতী উপজেলা নিয়ে গঠিত টাঙ্গাইল-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থীর কাছে ৩৮ হাজার ২৪ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছেন।
প্রাথমিকভাবে প্রাপ্ত ১১৪টি কেন্দ্রের ফলাফল পাওয়া গেছে। এতে বিএনপির প্রার্থী লুৎফর রহমান মতিন 'ধানের শীষ' প্রতীকে ৯১ হাজার ৫৯৮ ভোট পেয়ে এগিয়ে আছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্রপ্রাথী আবদুল লাতিফ সিদ্দিকী পেয়েছেন ৫৩ হাজার ৫৭৪ ভোট।
টাঙ্গাইল-৫
সদর উপজেলা নিয়ে গঠিত টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনে ত্রিমূখী লড়াইয়ে বিএনপিপ্রার্থী সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু ৫১ হাজার ৪২৮ ব্যবধানে পরাজিত করেছেন জামাত প্রার্থী এবং বিএনপিরই বিদ্রোহী প্রার্থীকে পরাজিত করব যাই৯
বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন ট প্রতীকে ১ লাখ ২৯ হাজার ৯৪৩ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।
তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর আহসান হাবিব মাসুদ পেয়েছেন ৭৮ হাজার ৫১৫ ভোট। অন্যদিকে, বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী অ্যাডভোকেট ফরহাদ ইকবাল পেয়েছেন ৬৮ হাজার ৭২৮ ভোট।
টাঙ্গাইল-৬
নাগরপুর ও দেলদুয়া উপজেলা নিয়ে গঠিত টাঙ্গাইল-৬ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীকে ৪৯ হাজার ৮৮৬ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেছেন বিএনপির প্রার্থী মো: রবিউল ইসলাম বিজয়ী হয়েছেন।
এই আসনে বিএনপির প্রার্থী মো. রবিউল আওয়াল 'ধানের শীষ' প্রতীকে ১ লাখ ৮৯ হাজার ২০৯ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।
তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর এ. কে. এম আব্দুল হামিদ প্রার্থী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৮৭ হাজার ৯০৪ ভোট।
টাঙ্গাইল-৭
মীর্জাপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত টাঙ্গাইল-৭ আসনে ১৫৪টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১২৬টির ভোট গননা শেষ হয়েছে। প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী, জামাতের প্রার্থী ৭০ হাজার ২১৩ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছেন বিএনপির প্রার্থীর কাছে।
এই আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী 'ধানের শীষ' প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ৪১ হাজার ৩১৮ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।
তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর আব্দুল্লাহ এবনে আবুল হোসেন দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৭০ হাজার ৫১ ভোট।
টাঙ্গাইল-৮
সখিপুর এবং বাসাইল উপজেলা নিয়ে গঠিত টাঙ্গাইল-৮ আসনে ১৩১টি কেন্দ্রের ভোট গননা শেষ হয়েছে। প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী, ৩৬ হাজার ৭৪৬ ভোটের ব্যবধানে হেভিওয়েট প্রার্থী আহমেদ আজম খানের কাছে পরাজিত হয়েছে স্বতন্ত্র প্রার্থী
আসনে বিএনপির প্রার্থী আহমেদ আযম খান ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ১৫ হাজার ১৩৪ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।
তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী সালাহউদ্দিন আলমগীর রাসেল 'হরিণ' প্রতীকে পেয়েছেন ৭৫ হাজার ৩৭৩ ভোট।
এক নজরে টাঙ্গাইল জেলার নির্বাচনী তথ্য
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইলে দুই-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে শুরু হয়ে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত একটানা ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।
ভোটাররা সকাল থেকেই উৎসবমুখর পরিবেশে এবং নির্বিঘ্নে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট প্রদান করেছেন। ভোট কেন্দ্রে নারী ভোটারদের উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়।
জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক শরীফা হক জানান, জেলার ৮টি আসনে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন অনুষ্ঠিত হয়েছে। কোথাও কোন ধরনের গোলযোগের ঘটনা ঘটেনি। ভোটরা নির্বিঘ্নে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ভোট প্রদান করেছেন।
জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, টাঙ্গাইলের ১২টি উপজেলা নিয়ে গঠিত ৮টি সংসদীয় আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩৩ লাখ ৩৪ হাজার ৪২৭ জন। এর মধ্যে মহিলা ভোটার ১৬ লাখ ৭১ হাজার ১৯৮ জন এবং পুরুষ ভোটার ১৬ লাখ ৬২ হাজার ৮২২ জন। এবার নতুন ভোটার রয়েছেন ১ লাখ ৮৭ হাজার ৫২৬ জন।
জেলার ১২টি উপজেলায় ৮টি সংসদীয় আসনে ২৫০০ পুলিশ সদস্য এবং ১৩ হাজার ৮১৯ জন আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করেছেন।
এছাড়া সেনাবাহিনীর ২১০০ সদস্য, বিজিবি সদস্য ৩০১ জন, র্যাব ৮০ জন এবং ব্যাটালিয়ান আনসার ২০০ জন দায়িত্ব পালন করেছেন।
অন্যদিকে, এই নির্বাচনে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ১৬ জন, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ৬৮ জন এবং জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করেছেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে ২০ হাজার ৩৫৬ জন কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করেন। এর মধ্যে, প্রিজাইডিং অফিসার ১ হাজার ৬৩ জন, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ৬ হাজার ৪৩১ জন এবং পোলিং অফিসার ১২ হাজার ৮৬২ জন দায়িত্ব পালন করেন।
Unauthorized use or reproduction of The Finance Today content for commercial purposes is strictly prohibited.
