05/05/2026
নিজস্ব প্রতিবেদক | Published: 2026-05-05 09:52:07
৪০ লাখ টাকা ঘুষ না দেওয়ায় ২ কোটি ৩৫ লাখ টাকা কর নির্ধারণ
একজন প্রবাসী আইটি উদ্যোক্তা ফরহাদুল আলম অভিযোগ করেছেন, ৪০ লাখ টাকা ঘুষ না দেওয়ায় তার বিরুদ্ধে অস্বাভাবিকভাবে ২ কোটি ৩৫ লাখ টাকার কর নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০২২-২০২৩ কর বছরের আয়কর অডিটকে কেন্দ্র করে এই অভিযোগ ওঠে, যা ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা সৃষ্টি করেছে।
ভুক্তভোগীর ভাষ্য অনুযায়ী, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) অধীনস্থ ২৪৭ নম্বর কর জোনে তার কর নথিপত্র অডিট চলাকালে একাধিক অনিয়ম ও অস্বচ্ছ আচরণের মুখোমুখি হন তিনি। তার দাবি, ঐ জোনে কর্মরত একজন টাইপিস্ট জাকিরের মাধ্যমে তৎকালীন উপ-কর কমিশনার (ডিসিটি) হাসিবুল ইসলাম তার প্রতিনিধির কাছে ৪০ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন।
ফরহাদুল আলম অভিযোগ করেন, ঘুষ দাবির বিষয়টি সরাসরি না বলে ইঙ্গিতপূর্ণভাবে উপস্থাপন করা হয়। একটি ক্যালকুলেটরে “৪০” লিখে দেখিয়ে বোঝানো হয় যে, নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ প্রদান করা হলে তার জমাকৃত ব্যাখ্যা ও নথিপত্র গ্রহণযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হবে এবং কর জটিলতা সহজে নিষ্পত্তি করা সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, “আমি দীর্ঘদিন ধরে বৈধ উপায়ে আয় করছি এবং নিয়মিতভাবে আয়কর রিটার্ন দাখিল করছি। আমার ব্যাংকিং লেনদেন, বিদেশ থেকে প্রেরিত রেমিট্যান্স—সবকিছুর স্বচ্ছ ব্যাখ্যা কর্তৃপক্ষকে দিয়েছি। তারপরও আমাকে অযৌক্তিক চাপের মুখে পড়তে হয়েছে।”
তার দাবি, ঘুষের অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে ২০২২-২০২৩ কর বছরের জন্য ২ কোটি ৩৫ লাখ টাকার কর নির্ধারণ করা হয়, যা তার মতে বাস্তবতার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ এবং প্রতিশোধমূলক সিদ্ধান্ত।
এতেই শেষ নয়—তিনি জানান, সম্প্রতি ২০২৩-২০২৪ কর বছরের জন্য তার পাশাপাশি তার স্ত্রী ও পিতার আয়কর রিটার্নও অডিটের আওতায় আনা হয়েছে। বিষয়টিকে তিনি ‘অপ্রয়োজনীয় চাপ সৃষ্টি ও হয়রানির অংশ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
ফরহাদুল আলম আরও বলেন, গত এক দশকে তার প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে দেশে কয়েক হাজার কোটি টাকার রেমিট্যান্স এসেছে। ব্যক্তিগতভাবেও তিনি কয়েকশত কোটি টাকা দেশে পাঠিয়েছেন। এই অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি একাধিকবার কুমিল্লা জেলার শ্রেষ্ঠ রেমিট্যান্স প্রেরণকারী হিসেবে সম্মাননা পেয়েছেন।
একজন প্রবাসী উদ্যোক্তা হিসেবে এ ধরনের অভিজ্ঞতা তার জন্য অত্যন্ত হতাশাজনক উল্লেখ করে তিনি বলেন, “যদি বৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনা ও বিনিয়োগ করার পরও এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়, তাহলে তা দেশের বিনিয়োগ পরিবেশ এবং রেমিট্যান্স প্রবাহের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।”
তবে এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর কর্মকর্তাদের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
Editor & Publisher : Md. Motiur Rahman
Pritam-Zaman Tower, Level 03, Suite No: 401/A, 37/2 Bir Protik Gazi Dastagir Road, Purana Palton, Dhaka-1000
Cell : (+88) 01706 666 716, (+88) 01711 145 898, Phone: +88 02-41051180-81