02/05/2026
শাহীন আবদুল বারী | Published: 2026-02-05 11:25:09
টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যাডভোকেট ফরহাদ ইকবালের পেছনে আওয়ামী লীগের পলাতক একাংশ ও জামায়াতে ইসলামী নেপথ্যে থেকে কলকাঠি নাড়ছে। এজন্য ফরহাদের নির্বাচনী খরচ হিসেবে কয়েক কোটি টাকা যোগান দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
ওয়াকিবহাল সূত্রমতে, টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক থেকে বহিস্কৃত অ্যাডভোকেট ফরহাদ ইকবাল নিজে নির্বাচিত হওয়ার জন্য প্রার্থী হননি। তিনি নিজেও দলের পক্ষে কাজ করার জন্য মনোনয়ন প্রত্যাহার করতে ইচ্ছুক ছিলেন। তবে এখন তিনি মূলত জামায়াতে ইসলামী ও বিদেশে পলাতক আওয়ামী লীগের একটি অংশের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে নির্বাচন করছেন। কার্যত বিএনপির প্রার্থীকে হারাতে ফরহাদকে স্বতন্ত্র প্রার্থী করা হয়েছে। তবে টাঙ্গাইল সদরের বিএনপি তথা সচেতন ভোটাররা তাদের এই নোংরা ষড়যন্ত্রকে ভালোভাবে নিচ্ছে না। সদরবাসী রুখে দিতে চায় ফরহাদ গংদের সকল মিথ্যাচার ও বিভ্রান্তি।
ধানের শীষ প্রতীকের বিরুদ্ধে এজেন্ডা বাস্তবায়ন করার লক্ষ্যে গত কয়েক দিনে প্রচুর পরিমান অর্থ এসেছে ফরহাদের কাছে। এমন খবর ছড়িয়ে পড়েছে সর্বত্র। গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও এই বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে অনুসন্ধান করছে।
গত এক সপ্তাহ ধরে সরেজমিনে টাঙ্গাইল সদর আসনের বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডের নানা শ্রেণী পেশার মানুষের সাথে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
পেশার পরিচয় না দিয়ে ছদ্মবেশে ফরহাদ ইকবালের বেশ কয়েকজন ঘনিষ্ট কর্মীর সাথে চায়ের স্টলে আলাপকালে তারা বলেন, ফরহাদ ইকবালের গোপন মিশন জানতে পেরে তারা ফরহাদকে ত্যাগ করেছে। কারণ তারা মনেপ্রাণে বিএনপিকে ভালোবাসেন। গত ১৭ বছর বিএনপির দুঃসময়ে যারা ছিলো তাদেরকে পুজি করার চেষ্টা করেছে ফরহাদ ইকবাল। তিনি দলের সাথে বেঈমানী করেছে শুধু মাত্র টাকার ফাঁদে পড়ে।
সুত্রমতে, বিএনপির মনোনয়ন চুড়ান্ত হবার পরের দিন জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর আহসান হাবিবের সাথে ফরহাদ ইকবালের বৈঠক হয়। একান্ত গোপন এই বৈঠকে পরিল্পনা চুড়ান্ত করা হয়। এদিকে গত ১৭ বছর আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে টাঙ্গাইলে সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েক করা আওয়ামী লীগের একটি অংশের সাথে স্বতন্ত্র প্রার্থী ফরহাদ ইকবালের জুম মিটিং হয়। এই মিটিংয়ে ফরহাদ ইকবালকে মাঠ না ছাড়ার জন্য অনুরোধ করা হয়। এসময় তাকে মোটা অংকের অর্থ যোগানের প্রতিশ্রুতি দেয়া হয় জুম মিটিংয়ে।
আওয়ামী লীগের এই অংশটি মনে করে সুলতান সালাাউদ্দিন টুক এমপি হলে ভবিষ্যতে তাদের রাজনীতি কঠিন হয়ে পড়বে। কারন সুলতান সালাউদ্দিন টুকু নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে তিনি এমপি হলে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজমুক্ত টাঙ্গাইল গড়ে তোলা হবে। কোন মাদক ব্যবসা চলবে না। তিনি কিশোরগ্যং মুক্ত টাঙ্গাইল গড়ার ঘোষনা দিয়েছেন। আর সেই কারনে নির্বাচনে টুকুকে পরাজিত করতে পারলে জামায়াত ও পলাতক আওয়ামী সন্ত্রাসীদের জন্য আগামীতে অনেক সুবিধা হবে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, টাঙ্গাইলে ইয়াবা ব্যবসার মূল হোতা ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের এক সাংগঠনিক সম্পাদক। এই ইয়াবা ব্যবসায়ী শহরের নিজ এলাকায় কয়েক বিঘা জমি দখল করেন। ২০২৪ সালের ৫ আগষ্ট আওয়ামী লীগের ওই নেতা দেশ থেকে পালিয়ে যায়। এরপর থেকে দখল করা কয়েকশ’ কোটি টাকার জায়গা বিক্রির দায়িত্ব নেন টাঙ্গাইল শহর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক পৌর কাউন্সিলর মেহেদি হাসান আলীম। বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত এই নেতা ফরহাদ ইকবালের মনোনয়নপত্রে প্রস্তাবক হিসেবে স্বাক্ষর দেন। ফরহাদ ইকবালের নির্বাচনে তিনিই প্রধান ব্যক্তি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দলীয় শৃংখলা ভঙ্গের দায়ে সম্প্রতি তাকে বিএনপি থেকে বহিস্কার করা হয়। বহিস্কৃত এই নেতার মাধ্যমেই দেশের বাইরে থেকে কয়েক কোটি টাকা নির্বাচনী খরচ পাঠানো হয়েছে ফরহাদ ইকবালের জন্য।
এদিকে, নির্বাচনের প্রথম পর্যায়ে বিএনপির যে ক্ষুদ্র একটি অংশ ফরহাদ ইকবালের পক্ষে ব্যাপক ভুমিকা রেখেছিল। তারা এমন একটি ষড়যন্ত্রের বিষয়ে জানতে পেরে ফরহাদকে ত্যাগ করেছেন। এরা সকলেই এখন ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে অবস্থান নিয়ে নির্বাচনী প্রচার প্রচারনা চালাচ্ছেন। এই অবস্থায় ফরহাদ ইকবাল এখন অনেকটাই একা হয়ে গেছেন। দুই চারজন কর্মী নিয়ে ভোটের মাঠে কোন রকমে টিকে আছেন।
বিএনপির একাধিক নেতার অভিযোগ, ফরহাদ ইকবাল নিজেও জানেন যে তিনি নির্বাচিত হতে পারবেন না। তারপরও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ফরহাদ মাঠে রয়েছেন শুধুমাত্র জামায়াত ইসলামীকে নির্বাচনে সুবিধা দেয়ার জন্য। নেতাকর্মীদের ধারনা ফরহাদ ইকবাল বিএনপির প্রতিপক্ষের কাছ থেকে গত কয়েক মাসে কয়েক কোটি টাকা পকেটে তুলেছে। যে কারনে তার পরিবার ও ঘণিষ্ট স্বজনদের আপত্তির মুখেও নির্বাচন থেকে সরে যেতে পারেনি।
তারা আরও বলেন, টাঙ্গাইল সদরে সালাউদ্দিন টুকুর কোন বিকল্প নেই। টাঙ্গাইল সদর তথা বিশাল চরাঞ্চলের মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে তিনিই একমাত্র যোগ্য প্রার্থী বলে মনে করছেন সাধারন জনগন। চরাঞ্চলের মানুষ একজোট হয়েছে টুকুর পক্ষে। তাদের প্রানের দাবি বেড়িবাধ ও ব্রীজ নির্মান করা একমাত্র টুকুর পক্ষেই সম্ভব। যে কারনে দলমত ভুলে ধানের শীষের পক্ষে একজোট হয়েছে সদর আসনের মানুষ।
আরেকটি কথা বিভিন্ন চায়ের স্টলে আলাপকালে শোনা গেছে, ফরহাদ ইকবাল নিজেকে শুধু বলে বেড়াচ্ছেন তিনি সদরের ছেলে। কিন্তু তার এমপি হওয়ার যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে মুখ কালো হয়ে যায়। কথিত আছে ফরহাদ ইকবালের আদি বংশ সিরাজগঞ্জের চৌহালী। যা ইতোমধ্যে টাঙ্গাইল সদরে একটি আলোচিত বিষয়।
ধানের শীষের প্রার্থী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু কখনো শিক্ষক-শিক্ষার্থী , কখনো ঈমাম-বৃদ্ধ, কখনো শিশু-কিশোর, কখনো কৃষক-রিকশাওয়ালাকে ডেকে মাথা ও পিঠে হাত ভুলিয়ে দিচ্ছেন। বসার জন্য ছেড়ে দিচ্ছেন নিজের চেয়ার বা স্থান। মাঠে ময়দানে গিয়ে শুনছেন সরাসরি মানুষের সমস্যার কথা। প্রতিটি জনসভা ও উঠান বৈঠকে টুকুর বিনয়ী আচরণ চরবাসীকে মুগ্ধ করে তুলছেন। প্রতিপক্ষকে ঘায়েল না করে বলছেন মানুষের দুঃখ দুর্দশা ও সীমাহীন দুঃশাসনের অতীত কথা। টাঙ্গাইল সদরের যিনি এমপি হবেন, তিনি সাধারণ মানুষের কাতারে গিয়ে বসবেন, শুনবেন এটাই সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর মধ্যে ফুটে উঠেছে। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শ এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মূল্যবোধ ও স্বপ্ন টুকুর মাঝে খুজে পেয়েছে টাঙ্গাইল সদরের মানুষ।
মাঠপর্যায়ের চিত্রে দেখা যাচ্ছে, স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যাডভোকেট ফরহাদ ইকবালের অনেক নেতাকর্মী ধীরে ধীরে তার কাছ থেকে সরে এসে দলীয় প্রতীক ধানের শীষের প্রার্থী সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর পক্ষে কাজ শুরু করেছেন। দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কারণে অ্যাডভোকেট ফরহাদ ইকবাল সংগঠনের শক্ত সমর্থন ধরে রাখতে পারছেন না। ফলে নেতাকর্মীদের একটি বড় অংশ দলীয় ঐক্য ও প্রতীকের প্রতি আস্থাশীল হয়ে ধানের শীষের পক্ষে অবস্থান নিচ্ছেন।
এতে করে প্রশ্ন উঠেছে—দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়াটা কি অ্যাডভোকেট ফরহাদ ইকবালের জন্য ভুল সিদ্ধান্ত প্রমাণিত হচ্ছে?রাজনৈতিক অঙ্গনে এই বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা চলছে।
অন্যদিকে, ধানের শীষের প্রার্থী সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর শিবিরে এই যোগদানকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন নেতাকর্মীরা। নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই টুকুর পক্ষে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত হচ্ছে। কারণ দল কোনো ব্যক্তির নয়; দল একটি সমষ্টিগত শক্তি, যেখানে লক্ষ লক্ষ নেতাকর্মীর আবেগ জড়িয়ে আছে। সেই দলকে ব্যক্তিস্বার্থে হেয় প্রতিপন্ন করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
টাঙ্গাইল সদরের মানুষ ভুল করবেনা। ভোটাররা আগামী ১২ ফেব্রুয়ারী টুকুকে ধানের শীষে ভোট দিয়ে তারেক রহমানের হাত শক্তিশালী করবে এটাই বিএনপি সমর্থিত সকলের প্রত্যাশা।
Editor & Publisher : Md. Motiur Rahman
Pritam-Zaman Tower, Level 03, Suite No: 401/A, 37/2 Bir Protik Gazi Dastagir Road, Purana Palton, Dhaka-1000
Cell : (+88) 01706 666 716, (+88) 01711 145 898, Phone: +88 02-41051180-81