February 3, 2026, 9:30 pm


বিশেষ প্রতিবেদক

Published:
2026-02-03 11:47:35 BdST

টাঙ্গাইল-৮ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীর টাকার ছড়াছড়ি


আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-৮ (সখিপুর-বাসাইল) আসনে গরু জবাই করে বিরিয়ানি রান্না করার অভিযোগে স্বতন্ত্র প্রার্থী (হরিণ মার্কা) সালাউদ্দিন আলমগীরকে ২০ হাজার টাকা জরি'মানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে রান্না করা বিরিয়ানিগুলো বিভিন্ন মাদ্রাসায় বিতরণের নির্দেশ দেওয়া হয়।

সহকারী কমিশনার (ভূমি) শামসুন নাহার শীলা কাকড়াজান ইউনিয়নের গড়বাড়ি বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন।

জানা যায়, টাঙ্গাইল-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সালাউদ্দিন আলমগীরের বিরুদ্ধে ভোটারদের মাঝে টাকা ছড়াছড়ির অভিযোগ উঠেছে। সস্তাদামে ভোট ক্রয় করতে তিনি বিভিন্ন পথ বেঁচে নিয়েছেন। মাদ্রাসা, মসজিদে ভোটের আগে অনুদানের হিরিক পড়েছে। রটানো হচ্ছে বিএনপি প্রার্থী এডভোকেট আহমেদ আযমের বিরুদ্ধে নানা কুৎসা ও বঞ্চনা। এতে প্রার্থীর চেয়ে দলের ক্ষতি হচ্ছে বহুগুণে। বিশেষ করে সখিপুরে নিজের ভোটার বেশি বলে অহংকারে নির্বাচনের আগেই নিজেকে অঘোষিত এমপি মনে করছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী সালাউদ্দিন আলমগীর। এতে সুষ্ঠ নির্বাচনে অনেকটা বাধাগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এডভোকেট আহমেদ আযমের সমর্থকেরা অভিযোগ করেছেন।

তারা বলেন, দীর্ঘ ১৭বছর পর মানুষ ভোট দেয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু সালাউদ্দিন আলমগীর যেভাবে ভোট কেনার জন্য টাকার বস্তা নিয়ে মানুষের দুয়ারে দুয়ারে যাচ্ছেন তাতে বাসাইল-সখিপুরের মানুষ বিভ্রান্ত হচ্ছে। তিনি নির্বাচনী আচরণ ভঙ্গ করে মানুষের মাঝে প্রকাশ্যে শীতবস্ত্র বিতরণ করছেন। সেগুলো আবার ভোটের মাঝে মাইকে বলে বেড়াচ্ছেন।

গরীব মানুষগুলোকে টাকা দিয়ে কেনা যায় মর্মে সালাউদ্দিন আলমগীরের সমর্থকরা প্রকাশ্যে বলে বেড়াচ্ছে। মাদ্রাসা, মসজিদ গুলোতে ৫০ হাজার থেকে লাখ টাকা পর্যন্ত দান-অনুদান দেয়া হচ্ছে। ভোটের আগে এমন দান আল্লাহকে রাজি খুশি করার জন্য নাকি ভোট কেনার জন্য তা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

অভিযোগ উঠেছে, সালাউদ্দিন আলমগীরের কর্মীরা বাসাইল-সখিপুরে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। তিনি ভোটারদের মাঝে কালো টাকা ছড়াচ্ছেন। বিএনপির নেতাকর্মীদের মারধর করা হচ্ছে। টাকা দিয়ে ভোট কিনে এমপি হওয়ার পায়তারা করছেন। তার টাকা ছড়ানোর বিষয়টি এখন সবার মুখে মুখে।

এভাবে চলতে থাকলে বাসাইল-সখিপুর আসনে বিএনপি প্রার্থীর অনায়াসে টাকার কাছে হেরে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। টাকার লোভে বিএনপির অনেক নেতাকর্মীও স্বতন্ত্র প্রার্থীর নির্বাচন করছেন বলে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।

উল্লেখ্য, সালাউদ্দিন আলমগীরের বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে টাঙ্গাইলে একটি মানববন্ধন হয়। টাকার বিনিময়ে তার অনুসারীরা মিডিয়ায় এই মানববন্ধনের সংবাদ প্রচার বন্ধ করে।

আসছে ১২ ফেব্রুয়ারী নির্বাচনে বাবসাইল-সখিপুরে টাকা দিয়ে ভোট কিনে এমপি হওয়ার পায়তারায় লিপ্ত হরিণ মার্কার সালাউদ্দিন আলমগীর। এটি হলে বিএনপি এই আসনটি হারাতে পারে। এজন্য বিএনপি নেতাকর্মীদের সতর্ক এবং ঐক্যবদ্ধ হওয়ার কোন বিকল্প নেই।

অভিযোগ রয়েছে, সালাউদ্দিন আলমগীর বিগত সরকারের শাসনামলে আওয়ামী লীগের কাছ থেকে ব্যপক ব্যবসায়ীক সুবিধা নিয়েছেন। এমনকি শেখ হাসিনার সাথে তার সরাসরি যোগাযোগ ছিলো। এখন তিনি বিএনপির প্রার্থীকে হারানোর জন্য কোটি কোটি টাকা নিয়ে মাঠে নেমেছেন। সর্বত্র ছড়িয়ে গেছে সালাউদ্দিন আলমগীর ৪শ' কোটি টাকা নিয়ে মাঠে নেমেছেন। টাঙ্গাইল আটটি আসনের মধ্যে বাসাইল-সখিপুর একটু ব্যতিক্রম ও জটিলতা দেখা দিয়েছে। স্বতন্ত্র প্রার্থীর টাকার কাছে হারতে পারে বিএনপি প্রার্থী।

সালাউদ্দিন আলমগীরের বিরুদ্ধে আরো একটি অভিযোগ সামনে এসেছে। তা হচ্ছে, ২০২১ সালে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালীর সাথে সালাউদ্দিন আলমগীরের ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান লাবীব গ্রুপের সঙ্গে যৌথ ব্যবসার একটি চুক্তি করা হয়েছিলো। 

বিতর্কিত ইভ্যালী নামক প্রতিষ্ঠানের মালিক রাসেলের বিরুদ্ধে দুদকে মামলা রয়েছে। রাসেল তার গ্রাহকদের সাথে হাজার হাজার কোটি টাকার প্রতারণা করেছেন। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দুই বন্ধু মিলে বেশ সুযোগ সুবিধা নেয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এই বিষয়টি প্রতিপক্ষ নির্বাচনী মাঠে সুযোগ গ্রহণের চেষ্টা করছে। তবে সালাউদ্দিন আলমগীর নিজেকে একজন সৎ ও আদর্শবান ব্যবসায়ী দাবি করেছেন।

এদিকে, ‎টাঙ্গাইলের বাসাইলে সড়কে সিমেন্টের খুঁটি ও গাছের গুঁড়ি ফেলে টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল-সখিপুর) আসনের বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী এড. আহমেদ আযম খানের গাড়ি বহর আটকে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

‎রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) রাত ২টার দিকে গণসংযোগ শেষ করে ফেরার পথে বাসাইল উপজেলার কাশিল ইউনিয়নের দেউলি গ্রামে রাস্তার মাঝখানে গাছ এবং বিদ্যুতের খুটি ফেলে গাড়ির গতি রোধ করে দুর্বৃত্তরা। এই ঘটনায় প্রায় ত্রিশ মিনিট তাঁর গাড়ির বহর আটকে থাকে। পরে বাসাইল থানা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ এসে রাস্তা থেকে গাছের গুঁড়ি এবং বিদ্যুতের খুঁটি সরিয়ে দিলে গাড়ি বহর নিয়ে চলে আসেন আহমেদ আযম খান।

‎জানতে চাওয়া হলে স্বতন্ত্র প্রার্থী (হরিণ মার্কা) সালাউদ্দিন আলমগীর সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে দুদক সহ কোথাও কোন অভিযোগ নেই। এসব মিথ্যা,বানোয়াট।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, আমার এতো টাকা নাই। আর সরকারি ভাবে ৪ কোটি টাকার বেশি খরচের নিয়ম নাই।

Unauthorized use or reproduction of The Finance Today content for commercial purposes is strictly prohibited.